মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের জন্য বছরে একবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে —– আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে​ গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু লালমনিরহাটে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন উপকৃত হবে​ শৈলমারী চরের অবহেলিত ২০ হাজার পরিবার লালমনিরহাট জেলা পুলিশ কতৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনির কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদকের সহধর্মিণী শিক্ষিকা আন্জুমান আরা বেগমের মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হাতীবান্ধায় বিয়ের ১৫দিন পর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে গোসল করতে নেমে নতুন জামাইয়ের মৃত্যু লালমনিরহাটে মোটর সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে নবম শ্রেণি এক ছাত্রের মৃত্যু আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে লালমনিরহাট পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে

লালমনিরহাটে মাস্ক বিক্রি করে লাখপতি রাশেদা বেগম করোনা যেন আশির্বাদ

লালমনির কন্ঠ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ১১০ বার দেখা হয়েছে

লালমনিরহাটে মাস্ক বিক্রি করে লাখপতি রাশেদা বেগম করোনা যেন আশির্বাদ।

স্টাফ রিপোর্টার।।​ সারা দেশের মানুষ যখন মরনঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে আতঙ্কিত, এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যুর মিছিলে দাড়িয়েছে ঠিক তখনি এই মহামারি করোনা ভাইরাসেই যেন আশির্বাদ হয়ে এলো রাশেদার জীবনে। যে মাত্র একটি ভাঙ্গা সেলাই মেশিন দিয়ে দুই সন্তানের লেখা পড়ার খরচসহ সংসারের খরচ চালাতে হিমসিম খেতো সেই রাশেদা এখন লাখপতি। তার অধিনেই এখন ৮/১০ মহিলা কাজ করে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকার ফারুক হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগম। অভাবের সংসার আর দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছিলেন একটি ভাঙা সেলাই মেশিনের সাহায্যে। সেই রাশেদা শুধু মাস্ক বিক্রি করেই লাখপতি হয়েছেন। ভবিষ্যতে ১টি গার্মেন্টসের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

জীবনের পথটা খুব একটা মসৃণ ছিল না রাশেদা বেগমের। বাবার ছিল অভাবের সংসার। এ কারণে স্কুলের গণ্ডি না পেরুতেই চলে আসেন স্বামীর সংসারে। সেখানেও অভাব। এরমধ্যেই তাদের ঘরে আসে দুই ছেলে। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে একটু ভালো থাকার আশায় ২০১৬ সালে বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে স্বামী ফারুক হোসেনকে বিদেশে পাঠান রাশেদা। সেই থেকে স্বামীর কোনো খোঁজ পাননি। সংসারের বোঝা বইতে না পেরে দুই ছেলেকে নিয়ে পাড়ি জমান বাবার বাড়িতে। এরপর নিজের ও সন্তানদের খরচ চালাতে রোজগারের কথা চিন্তা করতে থাকেন। তখনই হানা দেয় সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস, বন্ধ হয়ে যায় রাশেদার আয়ের পথ।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার যখন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে তখনই মাস্ক তৈরির পরিকল্পনা করেন রাশেদা বেগম। সেলাইয়ের কাজ জানা ছিল তার। এ কারণে একটা সেলাই মেশিন জোগাড় করে নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধে। শুরু হয় তার মাস্ক তৈরি ও বিক্রি।

রাশেদা বেগম বলেন, মাস্ক তৈরির আগে নকশা তুলতাম খাতার কাগজ বা পুরান কাপড় কেটে। প্রথমদিন বাজার থেকে ৬০ টাকা দরে দুই গজ মোটা সুতি কাপড় কিনে ২০টা মাস্ক বানাই। সেগুলো রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি ৩০ টাকা করে। ওইদিনই আয় হয় ছয়শ টাকা। সেই টাকায় পরদিন সকালে আরো ১০ গজ কাপড় কিনে মাস্ক বানাই। তা বিক্রি করে আসে তিন হাজার টাকা। এভাবেই মাস্ক বানানো ও বিক্রি বাড়তে থাকে।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন পর দেড় হাজার টাকায় নতুন একটি সেলাই মেশিন কিনে বেশি বেশি মাস্ক তৈরি করি। পাশাপাশি শহরের অলি-গলি, রাস্তা, হাট-বাজারে বিক্রি করতে থাকি। এভাবেই আমার মাস্ক বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়ে। সে খবর চলে যায় জেলা প্রশাসকের কাছে। জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য প্রশাসন থেকে দুই হাজার মাস্ক বানানোর অর্ডার পাই। এজন্য অগ্রিম চার হাজার টাকাও দেয়া হয়। সেই টাকায় কয়েক থান কাপড় কিনে শুরু করি কাজ।

শুধু জেলা প্রশাসন না, জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রশাসন অফিস, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ অনেক জায়গা থেকে মাস্কের অর্ডার পেতে শুরু করেন রাশেদা বেগম। অল্পদিনেই কয়েকটি মেশিন কিনে ফেলেন তিনি। এছাড়া তাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দেন লালমনিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাশেদুল হাসান রাশেদ।

বিভিন্ন ডিজাইনের মাস্ক তৈরি করে মানুষের নজর কাড়েন রাশেদা বেগম। এ কারণে তার তৈরি মাস্ক অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। মাস্ক তৈরি ও বিক্রির পাশাপাশি সবাইকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শও দেন তিনি। এতে পুরো লালমনিরহাট জেলায় মাস্ক-রাশেদা নামে পরিচিতি লাভ করেন। কাপড়ের মাস্ক বলতে রাশেদাকে সবাই এক নামে চেনে।

রাশেদা বেগমের সঙ্গে এখন নিয়মিত মাস্ক তৈরি করেন আরো পাঁচজন নারী। বেশি অর্ডার পেলে বাড়ির পাশের সেলাইয়ের কাজ জানা নারীদেরও কাজে লাগান তিনি। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ ও মানসম্মত হওয়ায় রাশেদার মাস্কের চাহিদাও বেশি। মাত্র কয়েক মাসে মাস্ক বিক্রি করে ঋণের আট লাখ টাকা পরিশোধ করেও কয়েক লাখ টাকার মালিক হয়েছেন রাশেদা বেগম। এখন দুই ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারও সামলাচ্ছেন বেশ ভালোভাবে।

রাশেদা বলেন, আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। সংসার, দুই ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি মা-বাবার খরচ বহন করাও সহজ হয়ে গেছে। আরো কিছু টাকা হলে একটি কারখানা স্থাপন করব। সেখানে উন্নত মানের মাস্ক তৈরি করে সেগুলো বিদেশেও রফতানি করতে পারব। এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কর্মকর্তা ফিরোজুর ইসলাম ফিরোজ বলেন, রাশেদা বেগম আমার কাছে এসে তার কষ্টের কথা বলে। তখন আমি তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিতে বলি। এখন তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে লালমনিরহাটের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, রাশেদা বেগম এক বছর শুধু মাস্ক বিক্রি করেছেন। আজ তিনি স্বাবলম্বী। তার তৈরি মাস্ক মানসম্মত। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রাশেদার তৈরি মাস্ক জনগণের মাঝে বিতরণ করেছে। আগামীতে তার কাছ থেকে আরো মাস্ক নেয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lalmonir Kantho
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102