বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের জন্য বছরে একবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে —– আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে​ গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু লালমনিরহাটে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন উপকৃত হবে​ শৈলমারী চরের অবহেলিত ২০ হাজার পরিবার লালমনিরহাট জেলা পুলিশ কতৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনির কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদকের সহধর্মিণী শিক্ষিকা আন্জুমান আরা বেগমের মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হাতীবান্ধায় বিয়ের ১৫দিন পর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে গোসল করতে নেমে নতুন জামাইয়ের মৃত্যু লালমনিরহাটে মোটর সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে নবম শ্রেণি এক ছাত্রের মৃত্যু আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে লালমনিরহাট পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে

লালমনিরহাটে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন উপকৃত হবে​ শৈলমারী চরের অবহেলিত ২০ হাজার পরিবার

লালমনির কন্ঠ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৯ বার দেখা হয়েছে

লালমনিরহাটে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন
উপকৃত হবে​ শৈলমারী চরের অবহেলিত ২০ হাজার পরিবার

লালমনির কন্ঠ ডেস্ক।। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নে অবস্থিত তিস্তা শৈলমারী চর। এ চরে প্রায় ৩ ওয়াডের ২০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিবছর তিস্তা নদী গতিপদ পরিবর্তনের ফলে ভাঙনে নদী গর্ভে চলে গেছে শত শত একর আবাদী জমি। নি:স্ব হয়েছে হাজার- হাজার​ কৃষক। বর্ষাকালে নৌকায় যাতায়াত কিছুটা সহজ হলেও শীত বা অন্য সময়ে দীর্ঘ ২ থেকে ৩ কিলোমিটার বালুপথ হেঁটে, ছোট ছোট ২ থেকে ৩টি নালার পানিতে ভিজে আসতে হয় উপজেলা শহর কালিগন্জে। নেই কোন পাকা কিংবা কাঁচা সড়ক। নেই কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই লেখাপড়ার উন্নত সুযোগ- সুবিধা। কর্মসংস্থান বলতে চরের জমিতে হালচাষ, নদীতে মাছ ধরা আর চরে গরু-মহিষ-ছাগল পালন করে কোনমতে দিনাতিপাত করে চরান্চলের মানুষ।​ চিকিৎসা সুবিধা একেবারেই নেই, নেই কোন চিকিৎসক। এ যেন এক আলাদা কোন জনপদ।
তিস্তা চরের সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষগুলোর কষ্ট লাঘবের জন্য বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের​ আওতায় গত বছর কালীগঞ্জ উপজেলার ওই শৈলমারী চরে ৩০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী। সেই সাথে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত কোটি কোটি টাকা মুল্যের ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহন করতে তৈরী করা হয় পাকা রাস্তা,​ ব্রীজ ও কালভার্ট। আর এভাবেই পাল্টে যাচ্ছে তিস্তা চরের চিত্র। সৌর বিদ্যুৎ চালু হলে আলোয় আলোকিত হবে তিস্তা চর। বদলে যাবে চরবাসীর ভাগ্য। আর সাফল্য বয়ে আসবে বিদুৎ খাতে রাজস্ব আয় হবে কোটি কোটি টাকা।
এদিকে ইন্ট্রাকো -সোলার পাওয়ার লিমিটেড স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ মহলের সাথে আলোচনা করে চর এলাকায় ২টি বেইলি ব্রীজ, ১৮ টি কালভার্ট নির্মাণ করে এবং নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার এলাকা সাই ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। চরের কয়েক কিলোমিটার দুর থেকে বিদ্যুতে খুঁটি বসিয়ে তার সংযোগ করে বিদ্যুত নিয়ে যান ওই দুর্গম চরাঞ্চলে। এর ফলে অন্ধকারে আচ্ছন্ন ভোটমারী ইউনিয়েনর ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। অবরুদ্ধ শৈলমারী চরবাসীসহ তিস্তার অন্যান্য চরের মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে যাবে। টেলিভিশন দেখাসহ বিভিন্ন আধুনিক -সুবিধা ভোগ করবে শৈলমারী চরবাসী।
এদিকে করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে ইন্ট্রাকো সোলার প্রকল্পে চরের ৫থেকে ৬শ’ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। মিলছেও ভালো মজুরী।
চরের বাসিন্দা দবিয়ার রহমান ও ছলে মামুদ জানান, দীর্ঘ দিন এই বালু চরে আছি কেউ খোঁজ নেয়নি। আমাদের কষ্ট ছিল বারো মাস।ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী সৌর বিদ্যুৎ’ প্রকল্পটি এসে আমাদের ভাগ্য খুলছে। চরের রাস্তা নির্মান হওয়ায় খুব সহজে আমরা এখন উপজেলা যেতে পারছি।​ ​
শৈলমারী চরের বাসিন্দা দেলদার মুন্সী, ওয়াহেদুল ইসলাম ও বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার জানান, এখানে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তাদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। এ প্রকল্পের কারণে স্বপ্নের পাকা রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। তাদের বাড়িতে কেউ অসুস্থ্য হলে দ্রুত তারা উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতেন না।এখন​ সহজেই তাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার জন্য শহরে যেতে পারবেন। কর্মসংস্থানের জন্য তারাও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে চলতে পারবেন। আর বিদ্যুৎ পেলে তাদের এই চরেই ছোট ছোট মিল, কারখানা গড়ে উঠবে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চরের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরী হবে।
ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেডের প্রকল্প ডিরেক্টর অপারেশন আব্দুল হালিম ও প্রকল্প ইনচার্জ মোঃ আক্তারুজ্জামান শিমুল হোসেন জানান, বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে ওই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মূল গ্রীডে সংযুক্ত করা হবে। আর এভাবেই কেটে যাবে লোডশেডিং’সহ বিদ্যুতের সংকট। তিস্তার পানি প্রবাহে যাতে কোন বাঁধা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ২টি বেইলি ব্রীজ ও ১৮ টি কালভার্ট নির্মাণ করেছেন ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড। এছাড়াও নদী ভাঙনরোধে হার্ড মেটিরিয়াল কাজ করা হয়েছে ৪ কিলোমিটার এলাকায়। এছাড়াও এ উৎপাদিত বিদ্যুতের সুবিধা পাবেন চরের মানূষজনসহ লালমনিরহাট জেলার মানুষজন।​ চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক​ মোঃআবু জাফর জানান, বিদ্যুত সংকট কাটিয়ে উঠা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর যে কমিটমেন্ট তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি। তিনি আরও জানান, সরকারের অগ্রাধিকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায় সেই ধু-ধু বালু চর বদলে গিয়ে এযেন এক অপরুপ দৃশ্যে পরিনত হয়েছে।ভোটমারী ইউনিয়নে অবস্থিত অবহেলিত তিস্তা শৈলমারী চর এক সময় জেলার পিকনিক স্পটে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন শৈলমারী চরের ৩ ওয়াডের মানুষেরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lalmonir Kantho
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102