বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের জন্য বছরে একবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে —– আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে​ গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু লালমনিরহাটে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন উপকৃত হবে​ শৈলমারী চরের অবহেলিত ২০ হাজার পরিবার লালমনিরহাট জেলা পুলিশ কতৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনির কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদকের সহধর্মিণী শিক্ষিকা আন্জুমান আরা বেগমের মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হাতীবান্ধায় বিয়ের ১৫দিন পর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে গোসল করতে নেমে নতুন জামাইয়ের মৃত্যু লালমনিরহাটে মোটর সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে নবম শ্রেণি এক ছাত্রের মৃত্যু আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে লালমনিরহাট পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়​ ৪০ দিন ধরে​ তিন​​ শহীদ মুক্তিযােদ্ধার​​ পরিবার​ অবরুদ্ধ

লালমনির কন্ঠ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১
  • ৮৩ বার দেখা হয়েছে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়​ ৪০ দিন ধরে​

তিন​​ শহীদ মুক্তিযােদ্ধার​​ পরিবার​ অবরুদ্ধ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়​ ৪০ দিন ধরে তিন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের​​ বসতবাড়ির সামনে গাছপালা কেটে ফেলে বাঁশের বেড়া দিয়ে​​ অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযােগ উঠেছে।​ এতে চরম ভােগান্তির শিকার হচ্ছেন নিরীহ শহীদ মুক্তিযােদ্ধার ওই তিন পরিবার।

ঘটনাটি​​ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার উপজেলায়​​ সানিয়াজান ইউনিয়নের চর ঠাংঝাড়া গ্রামে ঘটেছে।​

এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযােগ করেও একমাসেও কােন প্রতিকার না পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদ সদস্য মােতাহার হােসেনের কাছে বিচারের দাবী করেন অসহায় শহীদ মুক্তিযােদ্ধার ছেলে মিজানুর রহমান।

২ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে আমাদের এ প্রতিনিধি সরেজমিনে গেলে দেখতে পান, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের চর ঠাংঝাড়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযােদ্ধা নায়েক মজিবর রহমান (ইপিআর) এর ছেলে মােঃ মিজানুর রহমান ও তার ভাই বীর মুক্তিযােদ্ধা মােজাম্মেল ও মােশারফের মাত্র ৩০ শতক জমির বসতবাড়ির বিভিন্ন প্রকারের গাছপালা কেটে ফেলে এবং চলাচলের জায়গা বন্ধ করে দিয়ে তিন বাড়ির চার দিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলামের লােকজন। এ অবস্থায় অসহায় ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি চরম ভাগান্তিতে পড়েছেন।

​জানা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের চর ঠাংঝাড়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযােদ্ধা নায়েক মজিবর রহমান (ইপিআর) এর ছেলে মােঃ মিজানুর রহমানসহ মৃত তিন ভাইয়ের নামে তফশীল বর্নিত নামীয় রেকর্ডকৃত বসতবাড়ির ৩০ শত জমিতে ১৯৬৬ সাল থেকে ওই জমিতে বিভিন্ন গাছপালা লাগিয়ে বসবাস করছেন। একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত আব্দুল কাদরের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০) শহীদ মুক্তিযােদ্ধা পরিবারের বসতবাড়ির ৩০ শতক জমি পিতার সম্পত্তি দাবী করে তার দলবল নিয়ে গত ২২ জানুয়ারী ২০২১ সকাল জমির গাছপালা কেটে বসতবাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে রাখে। এতে শহীদ মুক্তিযােদ্ধার তিন পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে বাঁধা দিতে চাইলে ওই অসহায় পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী প্রদান করেন। এ ঘটনায় শহীদ মুক্তিযােদ্ধা নায়েক মজিবর রহমান (ইপিআর) এর ছেলে মােঃ মিজানুর রহমান (৬৪) গত ২৩ জানুয়ারী হাতীবান্ধা থানায় ৮ জনের নামে একটি লিখিত অভিযােগ করেন।

ভুক্তভুগি মিজানুর রহমান বলেন, আমার নিজের ও আমার তিন ভাইয়ের নামে রেকর্ডকৃত বসতবাড়ির ৩০ শত জমিতে ১৯৬৬ সাল থেকে বসবাস করে আসছি। প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলামের লােকজন তাদের জমিতে থাকা তাদের সব রকম গাছপালা কেটে ফেলে বাড়ির চতুরদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখে আমাদের তিন পরিবারকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন।​

এসময় তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরও বলেন, আমি ও আমার পরিবারের জানমালের কােন নিরাপত্তা নেই। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি যখন তখন আমাদের মেরে ফেলে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে উচ্ছেদ করতে পারে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এলাকার এমপি মােতাহার হােসেনের কাছে বিচার চাই যাতে আমরা এই অসহায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এই বসতভিটায় বসবাস করতে পারি। তাদের জায়গা জমি বলতে এই বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই।

ভুক্তভুগি মিজানুর রহমানের স্ত্রী শিরিনা বেগম বলেন, গত দুই বছর ধরে আমাদের লাগানো ১৩টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে, পুকুরে মাছ ধরে নিয়ে গেছে, ল্যাট্রিন ভেঙ্গে দিয়েছে আমরা ভয়ে কিছুই বলিনি। তাদের এতো অত্যাচারে কিভাবে আমরা টিকে থাকি? আমরা আতংঙ্কে আছি। তাদের ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বাবা মৃত আব্দুল কাদেরের নামে ৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী আমরাই এই জমির মালিক। বিষয়টি নিয়ে আমরাও থানায় অভিযােগ করেছি। দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হলে সমাধান হতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি তাদের যাতায়াত, গাছ কাটা ও বাঁশ দিয়ে বাড়ি ঘিরে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

হাতীবান্ধা থানার অভিযােগ তদন্তকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল কিন্তু এক পক্ষ সেইদিন না আসায় মামলাটি জমি সংক্রান্ত হওয়ায় আদালতে পাঠানাে হবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদুল আলম​​ জানান, অভিযােগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এক এসআই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গাছপালা কেটে ক্ষতি করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lalmonir Kantho
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102