বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের জন্য বছরে একবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে —– আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে​ গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু লালমনিরহাটে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন উপকৃত হবে​ শৈলমারী চরের অবহেলিত ২০ হাজার পরিবার লালমনিরহাট জেলা পুলিশ কতৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনির কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদকের সহধর্মিণী শিক্ষিকা আন্জুমান আরা বেগমের মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হাতীবান্ধায় বিয়ের ১৫দিন পর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে গোসল করতে নেমে নতুন জামাইয়ের মৃত্যু লালমনিরহাটে মোটর সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে নবম শ্রেণি এক ছাত্রের মৃত্যু আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে লালমনিরহাট পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে

আদিতমারীতে শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজী বর্ণে নাম ফলক, ভাষা সৈনিক ও ভাষা প্রেমীদের ক্ষোভ

লালমনির কন্ঠ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৯৯ বার দেখা হয়েছে

আদিতমারীতে শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজী বর্ণে নাম ফলক, ভাষা সৈনিক ও ভাষা প্রেমীদের ক্ষোভ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।।​ লালমনিরহাটের আদিতমারীতে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজী বর্ণে নাম ফলক তৈরী। দৃষ্টি নন্দনের নামে তৈরী এ স্থাপনা বিতর্কের জন্ম দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ভাষা সৈনিক, ভাষা প্রেমীকসহ গোটা জেলাবাসী। ভাষার মাসে শহীদদের সম্মানার্থে দ্রুত ইংরেজী বর্ণ অপসারণ করে ফলকটিতে বাংলা বর্ণ ব্যবহারের দাবি স্থানীয়দের।

প্রাণের বিনিময়ে কেনা বাংলা ভাষা। মায়ের ভাষা রক্ষায় ঝরেছে কত রক্ত। সেই ভাষা শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। কিন্তু লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা চত্বরে সেই শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজী বর্ণ ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে নাম ফলক। এতে ক্ষুব্ধ ভাষা প্রেমিরা। উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে রাষ্ট্রীয় অর্থে এমন কাজে বির্তকের জন্ম দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে।​

লালমনিরহাট জেলার ভাষা সৈনিক আবদুল কাদের ভাসানী​ তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যে বাংলা ভাসার জন্য আমরা লড়াই করেছি, আন্দোলন করেছি, যে ভাষার জন্য কতোজন শহীদ হয়েছেন সেই ভাষাকে আজ আমরা অমর্যাদা করছি। বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রান দিয়েছেন তাদের স্বরণেই নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। অথচ সেই শহীদ মিনারের সামনেই না কি ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে​​ নাম লেখা হয়েছে। যা বাংলা ভাষাকে অপমান এবং অমর্যাদা করা হয়েছে। তিনি​​ স্থাপনাটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। সেই সাথে বাংলা ভাষার অমর্যাদাকারী যারা এই স্থাপনা তৈরীর সাথে জড়িত এই ভাষার মাসে তাদের বিরুদ্ধে​​ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক বলে জানান তিনি।
এদিকে জেলার সচেতন মহলের দাবী এই নির্বুদ্ধিতা কখনোই মেনের নেয়ার মতো নয়। লক্ষ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলা ভাষা, রক্তে ঝড়া মায়ের ভাষাকে​​ কেউ কখনই​​ অপমান করতে পারে না। দ্রুত ইংরেজি বর্ণমালায় লেখা নাম ফলকটি অপসারণ করে সেখানে বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে নাম ফলক নির্মাণের দাবী জানান জেলার সচেতন মহল।​

জেলার একমাত্র বীর প্রতীক ক্ষেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) আজিজুল হক জানান, রক্তের বিনিময়ে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও বাংলা ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নজির বিশ্বে আর নাই। ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না এবং বাংলা রাষ্ট্র ভাষা হতো না। আজ আমরা সেই বাংলা ভাষাকেই অবমাননা করছি। ভাষা শহীদদের স্বরনে নির্মিত শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে নাম তৈরি কখনোই মেনে নেয়া যায় না। মায়ের ভাষার রক্ষার গৌরবোজ্জল ইতিহাস ও দেশ প্রেমের চেতনাবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত না করে ভিনদেশী ভাষাকে মর্যাদাপূর্ণ করার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে সকলের অগ্রণী ভূমিকা রাখা দরকার- ভাষার মাসে এমনটাই প্রত্যাশা করেন ভাষা সৈনিক ও ভাষা প্রেমীরা।

উল্লেখ্য,​​ ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এদেশের আপামর ছাত্র সমাজের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে যে মাতৃভাষা বাংলা অর্জিত হয়েছে তার গণ্ডি এখন শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং একুশে ফেব্রুয়ারি এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বতত্র। ভাষার জন্য বাঙালি জাতির এ আত্মত্যাগ আজ নতুন করে বিশ্বকে ভাবতে শিখিয়েছে মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থা (UNESCO) সাধারণ পরিষদে আমাদের জাতীয় চেতনার ধারক একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ আজ বাঙালিদের মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ যে বৈশ্বিক মর্যাদা লাভ করেছে তা মূলত আমাদের জাতীয় চেতনাবোধের বিজয়। ইউনেস্কোর গ্রহীত প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলা হয় যে, ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভাষা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। মাতৃভাষার প্রচলন কেবল ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং বহু ভাষাভিত্তিক শিক্ষাকেই উৎসাহিত করবে না, তা ভাষাগত এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন অনুধাবনের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। বাংলাদেশসহ জাতিসংঘভুক্ত ১৯৩টি দেশ বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারিকে পালন করছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বাংলা ভাষা ও বাঙালির জন্য এ প্রাপ্তি সহস্র মর্যাদার প্রতীক। অথচ আদিতমারীতে এই ভাষার মাসে ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে আজ অপমান করে শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নাম ফলক।

মায়ের ভাষার রক্ষার গৌরবোজ্জল ইতিহাস ও দেশ প্রেমের চেতনাবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও বাংলা ভাষাকে মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে
দ্রুত ইংরেজি বর্ণমালায় লেখা নাম ফলকটি অপসারণ করে সেখানে বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে নাম ফলক নির্মাণের দাবী জানান ভাষা সৈনিক ও ভাষা প্রেমীরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lalmonir Kantho
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102